সম্পাদকীয় :
সাম্প্রতি সময়ের সবচেয়ে অালোচিত ও সমালোচিত ঘটনা ধর্ষণ। তার চেয়ে যে বিষয়টি মনে কাঁপন দেয় শিশু ধর্ষণ। সংবাদপত্রে যখন দেখি ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ । গন পরিবহনে গন ধর্ষণ। তখন কোন পিতা মাতা কন্যা সন্তানের প্রতি খুশি ? সম্মুখে এমন সময় অপেক্ষামান অাল্টাস্নো করার সময় যদি কন্যা সন্তানের ছবি ভেষে উঠে তবে তার ভবিষৎ অনিশ্চিত ।কারন চলমান এ সময়ে সকল মা বাবা কন্যাসন্তানের প্রতি ভালোবাসা হারাবে, নিজেদের সম্মান বাঁচানোর জন্য।এ অবস্থা চলতে থাকলে অাগামী বছরগুলোতে কন্যা সন্তানের জন্ম অনেক কমে যাবে।ফলে ধর্ষণে মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা।এমন একটি সময় ছিল যখন কন্যা সন্তান জন্ম ছিল একটি পরিবারের অভিষাপ। জন্মের পর জীবিত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো কন্যা সন্তান।সে সময় অাসতে অার বেশি দেরি হবে না।
সাম্প্রতি ঘটে যওয়া কয়েকটি ধর্ষণের শিরোনাম ছিল অনেকটা এরকম যে ,ভিডিও দেখিয়ে পর পর তিন বার শিশু ধর্ষণ, শ্রেনিকক্ষে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রী কে ধর্ষণ, খাবারের লোভ দিয়ে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ, বিয়ের প্রলোভনে ১৪ বছরের শিশু ধর্ষণ, বাসায় ডেকে নিয়ে ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের পর মা মেয়ের মাথা ন্যাড়া , গন পরিবহনে ধর্ষণ, গন পরিবহনে গন ধর্ষণের পর হত্যা , পোষাকের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ, স্বামী বিদেশে স্ত্রীর নিকট অর্থ দাবী না দেওয়ায় ধর্ষণের পর হত্যা , মা মেয়েকে একসাথে ধর্ষণ, চাকরির প্রতাশায় ধর্ষণ । সাথে ছিল অারো অনেক অালোচিত গনধর্ষণ।
অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে বলে মনে হয় না।অামাদের দেশের অাইন অনেক কঠিন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। অালোচিত অনেক ধর্ষণের যথাযথ শাস্তি হলে ও তা ছিল অনেক ধীর গতি সম্পন্ন। যার কারনে জনসাধারনের মনে এ ধরনের শাস্তি কোনরুপ সাড়া ফেলতে পারেনি ।ধর্ষণের বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা সময় নিয়েছিল ৬ মাসের বেশি বা ১ বছর। যা মানুষ ভুলতে শুরু করেছিল এবং তাদের কি শাস্তি হয়েছিল জনসাধারনের অজানা । একটি ধর্ষণের ঘটনা যখন অালোচিত উচিৎ প্রমানের কয়েক ঘন্টার মধ্যে শাস্তি প্রদান। যা জনসাধারনের মনে ভীত প্রদান করবে।অপরাধীরা শাস্তির ভয়ে নিজেকে অপরাধ থেকে গুটিয়ে নিবে।
অাসুন সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় ধর্ষণ মুক্ত সমাজ গড়ি। অাগামী কন্যা সন্তানের ভবিষৎ নিশ্চিত করি।
লেখক : মানবতাবাদী শামীম শেখ
