সময় সকাল ১০:০২, শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গাংনীতে যুবক যুবতী নির্যাতন। সমাজপতিদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

গাংনীতে যুবক যুবতী নির্যাতন। সমাজপতিদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনীতে পরোকিয়া প্রেমের অভিযোগ তুলে আশরাফুল ইসলাম নামের এক অন্ধ যুবক কে মারধর ও রশিদিয়ে বেধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরের হাত থেকে রক্ষা পায়নী সিমা খাতুন নামের এক গৃহবধু। অবশেষে সমাজ পতিরা সালিস বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।
শুধু বিয়ে দিয়ে শান্ত হয়নী সমাজপতিরা আশরাফুল ইসলাম ও সিমা খাতুন কে সালিস বৈঠকের মাঝে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখা হয়। এ ধরনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনা টি শনিবার সকাল ৭ টার সময় গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে ঘটেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য দানিয়েল হোসেন জানান,শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে তার ভাতিজা একচোঁখ অন্ধ আশরাফুল ইসলাম করমদী মধ্যে পাড়ায় তার কয়েকজন বন্ধুদের সাথে বসে কথা বলছিলেন এসময় কতিপয় যুবক তাকে ডেকে নিয়ে একই পাড়ার জনৈক্য আলমগীর হোসেনের স্ত্রী সীমা খাতুনের ঘরে জোর পূর্বক তুলে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দেয়। পরে পরোকিয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে আশরাফুল ইসলাম ও সিমা খাতুন কে মারধর করে রশি দিয়ে ঘরের মধ্যে বেধে রাখা হয়। সকালে সেখান থেকে তাদের সালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। সালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম,সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক,ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ,আব্দুল হামিদ, আওয়ামীলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন ও জামাল উদ্দীন প্রমুখ।
তিনি আরো জানান,তার ভাতিজা আশরাফুল ইসলাম যদি কোন অপরাধও করে থাকেন তাহলে আইন আদালতে তার বিচার হবে। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ তুলে সমাজপতিরা সালিস বৈঠকের মাঝে তাদের হাজির করে তাদের জীবন হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন,তার ভাতিজার কোন ক্ষতি হলে সমাজপতিদের দায়ভার নিতে হবে।
এ ব্যপারে ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক বলেন,আশরাফুল ইসলাম ও সিমা খাতুন কে ঘরে বেধে রেখেছিল সেখান থেকে উদ্ধার করে সালিস করেছি। আশরাফুল ও সিমা কোন অপরাধ করে থাকলে আইনের কাছে তাদের সোপর্দ করলেন না কেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননী তিনি। এছাড়া সালিস ও তাদের দুজন কে বসিয়ে রাখতে পারেন কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে গড়িমসি শুরু করেন।
দুজন চেয়ারম্যান দুজন ইউপি সদস্য’র উপস্থিতিতে সালিক বৈঠকে আশরাফুল ইসলাম ও সিমা খাতুন কে মাথানিচু করে বসানো,বিয়ে ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গাংনী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান,বিষয় টি তিনি জানতেননা। তবে সমাজ পতিরা যে কাজ করেছে তা অন্যায়। কেউ অন্যায় করলে তার জন্য আইন আছে। অভিযোগ পেলে সমাজপতি ও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে একটি মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে সমাজপতি ও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হতে পারে বলে জানান সংস্থান উর্দ্ধর্ত্বন কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অসুস্থ জনিত কারনে আশরাফুল ইসলাম ও সিমা খাতুন কথা বলতে পারেননী।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী