সময় রাত ২:১৯, শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, আবার ভিডিও করে ইন্টারনেটে প্রদর্শন

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত এক নারীকে ধর্ষণ করে সেই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আল-মামুন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
এর আগে গত বুধবার নির্যাতিত ওই নারী নিজে বাদী হয়ে মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং পর্ণগ্রাফি আইনে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত মামুন উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের সমশের আলীর ছেলে। নাটোরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথমবর্ষের ছাত্র মামুন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান জানান, স্বামী পরিত্যাক্ত ওই নারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পুঠিয়ার ধোপাপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে তার ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার এজাহারে ২৩ বছর বয়সী ওই নারী বলেছেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর মামুন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হন। এরপর বিয়ের কথা বলে গত ১৫ মে মামুন তাকে রাজশাহী শহরে নিয়ে যান। কিন্তু কাজী না থাকার অজুহাতে তিনি ওই নারীকে বিয়ে না করে তার এক আত্মীয়র বাড়ি নিয়ে যান।
সেখানে তাকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, গোপনে ওই ঘটনার ভিডিওচিত্রও ধারণ করা হয়। এরপর মামুন ওই নারীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলেও তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু ওই নারী এতে রাজি না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৫ জুলাই মামুন ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুঠিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রলয় কুমার প্রামানিক জানান, মামলা দায়েরের থেকে মামুন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে তাকে নাটোর থেকে গ্রেফতার করে আনা হয়। পরে দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী