নিজেস্ব প্রতিবেদক : অাজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের, ঢাকা মহানগর দক্ষিন ও উত্তর কতৃক মায়ানমারে মুসলিমদের গনহারে হত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে কয়েকশ মানবাধিকার কর্মীর সমন্বয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব মানবতাবাদী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার ।ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবতাবাদী আক্তারুজ্জামান বাবুল,মানবতাবাদী ডাঃ আনোয়ার ফরাজী ইমন, মানবতাবাদী ডাঃ মোক্তার হোসেন, মানবতাবাদী হারুন-অর-রশিদ, মানবতাবাদী সৈয়দ আজমুল হক, মানবতাবাদী শেখ শহিদুল ইসলাম, মানবতাবাদী এমএ নায়েম তালুকদার, মানবতাবাদী দেলোয়ার হোসেন মিলন, মানবতাবাদী মো চাঁন শরীফ, মানবতাবাদী শামীম শেখ ও অারো অনেক মানবাধিকার কর্মীবৃন্দ । 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মায়ানমারের নির্যাতনের রুপরেখা তুলেধরা হয় এবং মানবাধিকার কমিশনের পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষনা করা হয় ।
মায়ানমারে যুগ যুগ ধরে মুসলিম নিধনের ধারাহিকতায় বর্তমানে মানবতালক্সঘনের চরম পর্যায়ে পৌছেছে। ইতিহাসের নৃশংসতম এ গণহত্যা অব্যাহতরেখেছে সন্ত্রাসী রাখাইন বৌদ্ধরা। রাখাইন রাজ্যের মংডু ও আকিয়াব এলাকায় চলছেগণহত্যা ও বেপরোয়া লুটতরাজ। মায়ানমারে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মুসলমান বৌদ্ধরাহত্যা করেছে। ট্রলার বোঝাই কত রোহিঙ্গা মারা গেছে তার কোন প্রকৃত হিসাবনেই। রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। বিরানভূমিতেপরিণত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। মংডু এলাকার দক্ষিন, নয়াপাড়া, বমুপাড়া,মাঙ্গালাপাড়া, সম্মন্যাপাড়া, চারমাইল, হাদির বিল ও ঝুড়ারপাড়া এবং আকিয়াবেরনাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, মং লেংপাড়া, বাহারছড়া, ছাক্কিপাড়া, জালিয়াপাড়া,রোহাইঙ্গা ও ওয়ালিদপাড়া সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মংডু ও আকিয়াবসহবিভিন্ন জায়গায় কোন মুসলমান যুবতি ঘরে থাকতে পারছে না। রাখাইন যুবকরা‘লুণ্ঠিন বাহিনী’র প্রত্যেকের সহযোগিতায় মুসলমান যুবতীদের ঘর থেকে ধরে নিয়েযাচ্ছে। গত কয়েকদিনে এরকম হাজার হাজার মুসলমান তরুণী নিখোঁজ হয়ে গেছে।মায়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে এ পযর্ন্ত— আট শতাধিকহিন্দু আরকান ছেড়ে বাংলাদেশের উখিয়ায় অবস্থান নিয়েছেন। রোহিঙ্গামুসলিমদের মতো তারাও নৃশংসতার স্বীকার হয়ে বাংলাদেশে আসছেন বলে জানালেওকিছু সূত্রে ভিন্ন তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে, সৈন্যরা হিন্দু যুবকদের রাখাইনযুবকদের সাথে তাল মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও জবাইয়ে অংশ নিতে বাধ্যকরছে। আর কেউ তাতে রাজি না হলেই তাকে হত্যা করছে। রাখাইন রাজ্যেও মংডু জেলার গ্রাম ফকিরা বাজার, রিকটা, চিয়ংছড়িসহ কয়েকটিএলাকায় অন্তত ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই যুবক। যাদেরএকটি অংশ কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের লোকনাথ মন্দির ও সংলগ্ন একটিফার্মের খালি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। আরো শতাধিক হিন্দু পরিবার সীমান্তের ওপারে কাছাকাছি এলাকায় আটকে আছে।মায়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত অনেক রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালকলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরও অনেকেই আহত অবস্থায় বিভিন্নজায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। কক্ছ্রবাজারের বিভিন্ন জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করছে রোহিঙ্গারা। খাদ্যের অভাবে অনেককষ্টে দিন অতিবাহিত করছে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা। তাদের পর্যাপ্ত খাবারেরব্যবস্থা নেই, নেই স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান এবং সেনিটারির ব্যবস্থা। বিশেষ করে শিশুরা রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ইতিপূর্বেও খাবার, কাপড় এবং ওষুধ বিতরণ করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা খন্ড খন্ডভাবে খাবার, পোশাক এবং ওষুধ বিতরণ অব্যাহতরেখেছে। ঢাকা মহানগরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। খুব শিগগিরই খাবার, পোশাক এবং ওষুধ নিয়ে রোহিঙ্গাদের পৌঁছাবে। বাংলাদেশমানবাধিকার কমিশন সারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র শাখার মাধ্যমে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সামনে মানববন্ধনের প্রস্তুতি এবং স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
