সময় সকাল ৭:৩১, মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রোহিঙ্গা নির্যাতন শীর্ষক BHRC’র জাতীয় কনভেনশনে ৩ দফা সুপারিশমালা পেশ। ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ ঠাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নোবেল পুরস্কার লাভের অধিকার অর্জন করেছেন -মোাস্তাক আহমেদ

কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত ও গণহত্যার শিকার ১০ লক্ষ মুসলিম রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠাই দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার লাভের অধিকার অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানবাধিকারমূলক আচরণ এবং তাদের আবাসন ও ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সারা দিয়ে বাংলাদেশের আপামর জনগণ সরাসরি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করেছেন এবং বহির্বিশ্ব থেকে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশ এগিয়ে আসছেন। মানবাধিকার কর্মীদের অবশ্যই মানবিকতার কার্যক্রমের গুণাবলী থাকতে হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-BHRC চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত রোহিঙ্গাদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং গণহত্যার প্রতিবাদে এক জাতীয় কনভেনশন ‘কক্সবাজার মানবাধিকার কনভেনশন-২০১৭’ ২৮ অক্টোবর ২০১৭ কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন BHRC’র প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।BHRC’র চট্টগ্রাম বিভাগের গভর্নর মিসেস সেতারা গাফফারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন BHRC ঢাকা মহানগরের গভর্নর সিকান্দার আলী জাহিদ, সিলেট বিভাগীয় গভর্নর ড. আর.কে. ধর, সদর দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি এমএ সোহেল আহমেদ মৃধা, কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি কানিজ ফাতেমা আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রফিক মাহমুদ, ঢাকা সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বৃহত্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি আমিনুল হক বাবু, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এড. নজরুল ইসলাম চুন্ন, বগুড়া আঞ্চলিক সমন্বয়কার মোঃ রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি অজিত কুমার দাশ, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাঈনুদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আজমুল হক, মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নূরুল ইসলাম ছত্তার, কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখসহ ৩০জন বক্তা বক্তব্য রাখেন।
BHRC’র মহাসচিব তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপর মায়ানমার সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং গণহত্যার বিবরণ ও ধারাবাহিকতার বর্ণনা দেন, তিনি বলেন রোহিঙ্গাদের উপর যে ধরনের নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হয়েছে মানব সভ্যতার সর্বনিকৃষ্ট একটি কর্মকান্ড বলে তা বিবেচিত হয়েছে। সারা পৃথিবীতে গত তিনশত বছরের ইতিহাসে বহু যুদ্ধ, খন্ড যুদ্ধ এবং বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়ে থাকলেও মানুষের উপর যে ধরনের নির্যাতন হয়েছে, রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সরকারের নির্যাতন সকল নির্যাতনকে হার মানিয়েছে। নারী, পুরুষ শিশুদের যেভাবে ধারালো ছোরা এবং বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে পশুর ন্যায় টুকরো টুকরো করে হত্যা করেছে এর কোন বর্ণনা দেওয়ার ভাষা নেই।
BHRC’র মহাসচিব আরও বলেন, “মানুষ মরণশীল।” আমাদের সবাইকে একদিন না একদিন মরতে হবে। মৃত্যুর পর স্থান হবে কবরস্থান অথবা শ্মশানে। ভাল কাজের মাধ্যমে মৃত্যুর পরেও পৃথিবীতে অনেক মানুষ যগযুগান্তর অমর হয়ে রয়েছেন। আসুন আমরাও ভাল কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। প্রত্যেকেই এমন কিছু করুন যেন মৃত্যুর পরেও মানুষ আপনাকে স্মরণ করে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমাদের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করে যেতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সকলস্থানে সাংগঠনিক কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়ে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে হবে। সম্মেলনে আগত সকল মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠন করান BHRC’র মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার।
রোহিঙ্গাদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং গণহত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত কনভেনশনে নিু উল্লেখিত সুপারিশমালা সর্বসম্মতিক্রমে পেশ করেন BHRC’র মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার। সুপারিশমালাগুলো হচ্ছে ঃ
১. অবিলম্বে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরত নেয়া হোক এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
২. নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর গণহত্যায় সংশ্লিষ্ট মায়ানমার সরকারের প্রধান অং সান সুচী, মায়ানমার রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান এবং নির্যাতনে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সদস্যদের গ্রেফতারপূর্বক আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার শুরু করা হোক।
৩. রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসন এবং মায়ানমার সরকারের গণহত্যায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের পূর্বপর্যন্ত রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তার জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হোক।

জাহানারা আক্তার
সহকারী পরিচালক- গবেষণা ও জনসংযোগ

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী