
বালিয়াকান্দি ঃ হ্যালো স্যার আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন, ফোনের লটারীতে আপনার একটি গাড়ী, ফ্লাট, নগদ টাকা পেয়েছেন। আপনি খুব সৌভাগ্যেবান ব্যাক্তি, তাই আপনাকে এ পুরস্কার নিতে হলে এখনই এ নম্বরটিতে বিকাশের মাধ্যমে দাবীকৃত টাকা দিন। কাউকে বললে সে আপনাকে নিষেধ করবে। আবার কখনোও গভীর রাতে সুমধুর নারী ও পুরুষ কন্ঠে নানা ধর্মীয় ও স্বর্ণালংকার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আবার নারীরা প্রেমের অভিনয় করে হাতিয়ে নেয় অর্থ। এভাবেই গ্রামীণ, টেলিটক, বাংলালিংক, রবিসহ বিভিন্ন ধরনের মোবাইলের সিম ব্যবহার করে প্রতারনা করে আসছে। এটি কোন বাংলা সিনেমার বা কাল্পনিক গল্প নয়। এভাবেই দিনের পর দিন সাধারন মানুষকে ধোকা দিয়ে প্রতারনা করে আসছে একটি চক্র। রবিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি শহরে এমনিই একটি ঘটনা ঘটেছে। জনৈক এক কলেজ ছাত্রীকে ঢাকায় ফ্লাট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ০১৭৫৮-০০৫৭৫৩, ০১৮৬৯-৬৭২৮৫০ নম্বরে ১৬ হাজার টাকা ও অন্য একটি নম্বরে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওয়েলকাম পার্টির সদস্যরা। ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর অপর দোকান থেকে ১৬ হাজার টাকা বাকীতে দেওয়ার পর প্রতারনার বিষয়টি জানতে পারে। এ ভাবে প্রতিনিয়তই প্রতারনার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ।
এ প্রতারক চক্র বেশির ভাগই ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢুমাইন, মাগুরার জেলার শ্রীপুর উপজেলার মহেশপুর, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া গড়াই নদীর তীরবর্তী অবস্থিত।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, ওয়েলকাম পার্টির সাথে জড়িত সব নারী-পুরুষই জড়িত হয়ে পড়েছে। এরা দিনের বেলায় ঘুমায় আর রাতের বেলায় প্রতারনার কাজে লেগে পড়ে। তাদের মোবাইল ফোন চেক করলেই বোঝা যায় সে এ কাজে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারনার কাজে জড়িত হয়ে পড়ার কারণে এর প্রভাব এখন ওই গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্যে প্রশাসন অবগত থাকার কারণে প্রতিনিয়তই চলে অভিযান। তবে অভিযানে কোন লাভ হয় না। আটককৃতরা দুই-একদিন জেল খেটে আবার বেরিয়েই শুরু করে প্রতারনার ব্যবসা। প্রতারনার বিষয়টি এখন সাধারন মানুষ জানতে পারার কারণে প্রতারনার কৌশল পাল্টে দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব, ডাক্তার, সাংবাদিক, পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। এ প্রতারনা রুখতে প্রশাসনকে যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবী এলাকার সচেতন মানুষের। এ কাজে যারা জড়িত বেশির ভাগের বাড়ীতে গেলেই বোঝা যায়, কাজ নেই, আয় নেই তবে বাড়ীতে উঠছে বড় বড় দালাল, দামী ব্রান্ডের মোটর সাইকেল। এর পাশাপাশি বিস্তার হয়েছে মরণ নেশা ইয়াবা। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব এখন কম নয়।
