
বালিয়াকান্দি ঃ সরকারী দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুণতে হয়নি কিংবা হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হতে হয়নি এমন ঘটনা কম। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে যে পরিমাণ শিক্ষক প্রতিদিন তাদের তথ্য ও আনুষাঙ্গিক কাজের জন্য আসেন তাতে করে তাদের ভোগান্তি ও দুর্নীতি আশ্রয় নিয়েই কাজ করতে হয় প্রতিনিয়ত এ কথা সর্বজনস্বীকৃত। তবে এক্ষেত্রে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই সেই চিত্র পুরো উল্টে গেছে বলে দাবী উপজেলার সাধারণ শিক্ষকদের। তার বাস্তব চিত্রই ফুটে উঠেছে অফিসের প্রবেশদ্বারে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’ আংশিক নয় পুরো সত্য আমরা“ শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ”দেখিয়ে দেই লেখার মাধ্যমে। এতে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সেবা গ্রহিতাদের কোন ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রশয় ছাড়াই সেবা দিতে আগ্রহ বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’ লেখা সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়। এ সময় অফিসে তথ্য জমা দিতে আসা খালিয়া মধুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস একজন সৎ ও কর্মঠ অফিসার। তার যোগদানের পর থেকে অফিসে আর্থিক কোন সুবিধা দেওয়া ছাড়াই আমাদের কাজ গুলো আমরা নিশ্চিন্তে করতে পারছি। তাছাড়াও তার তদাররিকর মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী অফিসের কাজ ঝুলন্ত না রেখে যথা সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সর্বদা প্রস্তুত।”আমি ও আমার অফিস দুর্নীতি মুক্ত ঘোষনা করেছি। আমি নিজেও কখনো দুর্নীতিকে প্রশয় দেইনি, আগামীতেও দুর্নীতি করবনা, প্রশ্রয় দেবোনা, যতদিন বেচে আছি এভাবেই থাকব।”
তিনি আরো বলেন- ১৯৯৬ সাল থেকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছি। দুর্নীতির সাথে কখনো বিন্দুমাত্র আপোষ করিনি। ২০১৭ সালের ২ মে থেকে বালিয়াকান্দিতে কমর্রত আছি, যতদিন থাকবো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবোনা। “আমি ও আমার অফিস দুর্নীতি মুক্ত” বানী সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগানোর কারনে নিজের ও নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রকাশ করেছি। সৎ থাকার জন্য নিজের ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ঠ বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
