সময় সকাল ৭:৪৬, সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুদে ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ব বৃদ্ধিতে দায় মেটাতে সর্বশান্ত পরিবারের লোকজনের অভিযোগ দায়ের

 বহরপুর     ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুদে ব্যসায়ীদের দৌড়াত্ব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের থেকে সুদের টাকা নিয়ে তা পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবার তাদের ভিটামাটি হারিয়ে পথে বসেছে। আবার সুদের টাকা সহ সমুদয় টাকা পরিশোধ করলেও সুদে ব্যবসায়ীদের নিকট থাকা স্বাক্ষরিত চেক ও সাদা ষ্ট্যাম্প নিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনা রয়েছে। অসহায় এমন কয়েকজন সুদে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গত ১০ মে পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম ও বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবং তার অনুলিপি দিয়েছে জেলা প্রশাসক রাজবাড়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বালিয়াকান্দি ও অফিসার ইনচার্জ বালিয়াকান্দি থানাকে।

অভিযোগকারীরা হলো –রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউণিয়নের বারুগ্রামের সনজিৎ কুমার দাসের ছেলে সমীর কুমার দাস, মৃত নারায়নচন্দ্র দাসের ছেলে সনজিৎ কুমার দাস, পাটুরিয়া গ্রামের মৃত অদৈত কুমার দাসের ছেলে অমর কুমার দাস, মৃত রামকান্ত দাসের ছেলে অনন্ত কুমার দাস, মৃত রামনাথ দাসের ছেলে অশান্ত কুমার দাস, সনজিৎ কুমার দাসের ছেলে সুধির কুমার দাস, মৃত চৈতন্য কুমার দাসের ছেলে যগেশ চন্দ্র দাস ও ফরিদপুর সদর উপজেলার ভজনডাঙ্গা গ্রামের মৃত নরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে স্বপন কুমার দাস।

উচ্চহারে সুদ গ্রহণকারীরা এসকল সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের দারিদ্রতার সুযোগে তাদের নিকট থেকে সুদ ও সুদের সুদ যাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে তাও তারা আদায় করেছে পেশিশক্তির মাধ্যমে। কখনো কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নেমে এসেছে সুদে কারবারীদের ষ্ট্রিমরুলার। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের পাটুরিয়া গ্রামের প্রভাবশালী সুদে কারবারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মৃত কালীপদ রায়ের ছেলে শ্রী অনিল কুমার রায় ও শ্রী অসিম কুমার রায়, হরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে শ্রী বিষ্ণপদ রায় ও শ্রী অরবিন্দু রায়। তারা এলাকাটাকে সুদের রাজ্যে পরিনত করে ফেলেছে। দীর্ঘ ২০ থেকে ২৫ বছর যাবৎ এরা সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদ নিয়ে এলাকার মধ্যে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তারা সুদের টাকার জন্য অনেক লোকের ঘরবাড়ি, জমিজমা রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে এবং সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই এলাকা ছঅড়তে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করছে ভুক্তভোগীগণ। সুদের টাকা লগ্নি করার সময় এই কারবারিরা ৪/৫টি করে স্বাক্ষর করা চেক ও সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর টিপসহি নিয়ে টাকা প্রদান করে থাকে। সুদের টাকাসহ আসল পরিশোধ করলেও অনেক সময় তারা স্বাক্ষর করা চেক ও ষ্ট্যাম্প দিয়ে মামলা করে পুনরায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব সুদে কারবারীদের জন্য দেশের ব্যাংক গুলো তার রাজস্ব হারাচ্ছে সেই সাথে চড়া সুদের কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের ভিটামাটি হারিয়ে গাছ তলায় আশ্রয় নিচ্ছে। এসকল সুদে কারবারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী এলাকার সচেতন মহলের। এবিষয়ে গত ২৬ মে উপজেলা পরিষদে শালিস হলেও এখন পর্যন্ত রায় হয়নি। এলাকাবাসী দ্রুত সুদে কারবারী ও সুদ গ্রহনকারীদের চিহিৃত করে জনগণের সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবী জানিয়েছেন।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী