
বালিয়াকান্দি ঃ ঈদকে সামনের রেখে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার কাপড় তৈরীর কারিগর দর্জি শ্রমিকরা কর্ম ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, রমজান শুরুর পর থেকে দর্জি শ্রমিক ও টেইলার্স এর মালিকরা সার্বক্ষণিক অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। প্রতিদিন ভোর হবার পর থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত তারা পোশাক তৈরী করার জন্য খাওয়ার সময়টুকু পর্যন্ত পাচ্ছেনা। তাঁরা এ সময়কে পরিশ্রম একটু বেশী হলেও কাজ করতে তাঁদের থাকছে না কোন অনিহা। কারণ পরিশ্রমের পাশাপাশি শ্রমিকরা মজুরীও বেশী পাচ্ছেন। যাঁর কারণে মনে প্রাণে দর্জি শ্রমিক ও টেইলার্সের মালিকরা রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। এমনকি দর্জি শ্রমিক ও টেইলার্সের মালিকরা তাঁদের পরিবারের সাথে এই রমজান মাসেও ইফতার করার সময় পর্যন্ত পাচ্ছেন না। ঈদের এখনও ১২ দিন বাঁকি থাকলেও দর্জি শ্রমিকদের শুরু হয়ে গেছে মহা ধুমধাম।
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বহরপুর, আড়কান্দি, রামদিয়া, সোনাপুর, আনন্দবাজার, রাজধরপুর, শামুখখোলা, জামালপুর, নলিয়া, নটাপাড়া এসব এলাকার দর্জি শ্রমিকরা তাঁদের এ সময়কে রাতদিন কর্ম ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বালিয়াকান্দি উপজেলায় প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টির মত দোকান আছে। জাকির টেইলার্সের সত্ত্বধিকারী মো. জাকির হোসেন ও মামুন টেইলার্সের সত্ত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন জানান, রমজান শুরু হওয়ার পর হতে প্রতি বছরের মত এ বছর অগ্রিম পোশাক তৈরী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্রেতারা। ফলে রাত দিন আমাদেরকে কাজ করতে হচ্ছে। তাঁরা আরও জানায়, গার্মেন্টস তৈরী রেডিমেট পোশাক অনেক সময় শরীরের সাথে ফিটিং না হওয়ায় টেইলার্সের তৈরী পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ বছর প্যান্ট ৩৫০ টাকা, শার্ট ২৫০ টাকা, পাঞ্জাবী ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, ব্লাউজ ৬০ টাকা, বোরখা ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় তৈরী করছে। এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজারের মোদক ফেব্রিক্স এন্ড টেইলার্স ও মান্নান টেইলার্সের সাথে। তারা জানান, প্রতিবছরের ন্যয় এ বছর আবহাওয়াটা অনেক অনুকুলে থাকায় তাদের অগ্রিম বেচাকেনা বেড়েছে। এ অবস্থা থাকলে বেচাকেনা আরও ভাল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
