সময় দুপুর ১:৫৬, সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কিছুটা কমেছে মূল্যস্ম্ফীতি

গেল নভেম্বরে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার হার বা মূল্যস্ম্ফীতি আরও কিছুটা কমেছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এ মাসে মূল্যস্ম্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আগের মাস অক্টোবরে যা ছিল ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। অবশ্য গ্রামে মূল্যস্ম্ফীতি আগের চেয়ে বেড়েছে।

সোমবার এক ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ম্ফীতির ওপর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এম মান্নান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মূল্যস্ম্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান ও শাকসবজির উৎপাদন হয়েছে। বিশ্ববাজারেও তেল-গ্যাসের দাম কিছুটা কমে আসায় আমদানি পণ্যের দামও কিছুটা কমেছে। আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ম্ফীতি আরও কমবে বলে আশা করেন তিনি।

গত আগস্টে ১১ বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে মূল্যস্ম্ফীতি দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে। ওই মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দর রেকর্ড ৫২ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও খাদ্যপণ্যের দর বেশি ছিল। এই দুই কারণে মূল্যস্ম্ফীতি অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। অবশ্য, পরের মাস থেকেই তা সামান্য কমতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্টম্ফীতি হচ্ছে, আগের বছরের নির্দিষ্ট কোনো মাসের ভোক্তা মূল্য সূচকের তুলনায় পরের বছর একই মাসে ওই সূচক যতটুকু বাড়ে তার শতকরা হার।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একজন সংবাদিক বলেন, খাদ্যপণ্যের বাজারদরের সঙ্গে বিবিএসের প্রতিবেদনের মিল নেই। এর উত্তরে এম এ মান্নান বলেন, বিবিএস ৪২২টি পণ্যের মূল্য যাচাই করে থাকে। এতে স্বর্ণের দামও ধরা হয়। স্বর্ণের দাম বাড়লে মূল্যস্ম্ফীতিতে প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া মাখন, কফিসহ এরকম অনেক পণ্যের দামও ধরা হয়। এগুলো সংশোধন করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ম্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ম্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অক্টোবরে এ উপখাতে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ মূল্যস্ম্ফীতি ছিল। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ম্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে ১০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। শহরেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ম্ফীতি বেড়েছে।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী