
বালিয়াকান্দি অফিস ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলা এবং ফরিদপুর জেলার মধুখালী, বোয়ালমারীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চন্দনা নদী অবৈধ দখল অব্যাহত রয়েছে। ফলে মহাজোট সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে চন্দনা-বারাশিয়া নদী পুন: খনন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষও রয়েছে রহস্যজনক কারণে নিরব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে লীজ এনেই নদী দখল করে চালিয়ে যাচ্ছে পাকা ভবন ও স্থাপনা। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সুফল ভোগীরা। এলাকার সচেতন মহল এসকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
এলাকার প্রবীনদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এক সময়কার চন্দনা নদীতে সারা বছর পানি থাকতো। বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নৌকা যোগে এসব এলাকায় এসে ব্যবসা করতো। কৃষকের নদীর পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতো। দীর্ঘদিন চন্দনা নদী খনন না করায় মৃত প্রায় নদীতে পরিনত হয়। মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর চন্দনা-বারাশিয়া নদী পুন: খননের উদ্যোগ গ্রহন করে। ফলে নদীতে এখন ও মিলছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। তবে পাংশা, কালুখালী, সোনাপুর, রামদিয়া, তেঁতুলিয়া, বালিয়াকান্দি, জামালপুর, মধুখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় এক শ্রেনীর ভুমি দস্যুরা নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নদী দখল করে পাকা স্থাপনাসহ ঘর নির্মান করার ফলে নদীর ¯্রােতধারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে চন্দনা-বারাশিয়া প্রকল্পের সুফল জনগনকে পেতে বাধা গ্রস্থ করছে এসকল অবৈধ দখলদাররা। শুধু তাই নয় স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে লীজের শর্তাবলীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তারা। তাদের চোঁখের সামনেই দিনের পর দিন অবৈধ ভাবে দখল করাসহ অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে।
চন্দনা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, চন্দনা নদীর মধ্যে দখল করে টিনের ঘর উত্তোলন করা হয়েছে। এরকম চন্দনা নদীর পাড় দখল করে শত শত ঘর ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কেউ কেউ লীজ গ্রহন করে লীজের শর্ত উপেক্ষা করে পাকা স্থাপনা নির্মান করলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বালিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মাহমুদুল হাসান জানান, লীজের শর্তাবলী উপেক্ষা করে এক শ্রেণীর লীজ গ্রহিতা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
