
বালিয়াকান্দি ঃ দীর্ঘদিন ধরে প্রাচীর না থাকা, ভবন ও অফিস জরাজীর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম করার পর রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়াগ্রাম খাদ্য গুদামের সীমানার গাছ অপসারন না করেই নতুন ভবন ও প্রাচীরের কাজ শুরু হয়েছে। পুরাতন প্রাচীর ঘেষে জন্ম নিয়ে বেড়ে ওঠা গাছ গুলো অপসারন না করে প্রাচীর নির্মানের ফলে একদিকে যেমন গাছের শিকড় কেটে দায়সারা ওয়াল (প্রাচীর) নির্মান করায় অল্প দিনেই প্রাচীর ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা আর শিকড় কাটা গাছগুলো ঝড়ে উপরে পড়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় লোকজন জানান, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করতে গিয়ে পার্শ্ববতী জমির মালিকদের লাগানো ও তাদের জায়গায় থাকা কিছু গাছ তাদেরকে অনুরোধ করায় তারা নিজেরাই কেটে নিয়ে গেছে। তবে সরকারী গাছ গুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করলে বাউন্ডারী ওয়াল ও ভবন গুলো সুরক্ষিত থাকবে। এ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী ভিত্তিতে উচিত।
স্থানীয় জামালপুর বাজারের সাধারন সম্পাদক মজিবর রহমান বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য গুদামের প্রাচীর , অফিস ভবন, বাসভবন, দারোয়ান কোয়াটার , গুদাম ও রাস্তা জরাজীর্ন অবস্থায় ছিল। অনেক লেখনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আসায় আমরা কৃতজ্ঞ। নির্মান কাজ সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে বেশ কয়েকটি গাছ অপসারনের জন্য কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি অতীব জরুরী।
নলিয়াগ্রাম খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি ওয়াজিউর রহমান জানান, ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গুদামের পাকা কাজ চলছে। খুলনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহিবী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কাজটি করছে। নির্মান করা হবে চর্তুদিকের প্রাচীর, গেইট, রাস্তা, ওসিএলএসডি রেসিডেন্ট কাম অফিস, ২টি দারোয়ান কোয়াটার। গত ৫ মে কাজটি শুরু হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা। কাজ শুরুর পূর্বে ২০টি ছোট বড় গাছ অপসারনের চিঠি দিয়েছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। গাছ অপসারন না করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা প্রাচীরের কাজ শুরু করলে সীমানা ঠিক রেখে প্রাচীরের ফাউন্ডেশন কাটতে গিয়ে গুদামের কিছু গাছ কর্তন ও উভয় পার্শে¦র কিছু গাছের শিকড় কাটতে বাধ্য হচ্ছে। পাশ্ববর্তী জমির মালিকদের গাছের শিকড় কাটায় কেউ গাছগুলো কেটে নিয়েছে আবার কারও গাছ দাড়িয়ে আছে। খাদ্য গুদাম ভবনটিকে ঘিরে বড় একটি রেন্ট্রি কড়াই গাছ রয়েছে। সেটির প্রায় অর্ধেক শিকড় কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি মূল ভবনের ঝুকি এড়াতে ঢালগুলো কেটে দিয়েছেন। নতুন ভবনের নির্মান কাজ শুরুর পূর্বেই নির্ধারিত স্থানের গাছগুলো ও শিকড় কাটা গাছের অপসারনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
