সময় সকাল ৭:০৩, শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

অা‌সেন মামা নিয়া যান।৫০ না‌কি ১০০?

সোমবার দুপুর বেলা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের রেললাইনের পাশ থেকে ডাক আসতে শুরু করলো, ‘আসেন, নিয়া যান মামা। ৫০ নাকি ১০০ টাকার লাগবে। নিয়া যান।’ এভাবে সুর করে ক্রেতাদের ডাকছেন তারা। সংখ্যায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন।

কারওয়ান বাজারের পূবপাশ ঘেঁষে রেললাইন। এরই পাশে সারি সারি বস্তির ঘর। এ ঘরগুলোর সামনে বাদাম বিক্রির মতো ডালা সাজিয়ে বসে রয়েছেন তারা। দেখা গেল, ক্রেতারাও অনেকে তা কিনছেন। কাছে যেতেই একজন এগিয়ে এসে বললেন, মামা, লাগবে নাকি। চোখ পড়তেই দেখা গেল ডালায় পুরিয়া করে সাজানো। দূর থেকে দেখে মনে হবে, এটা একটা সাধারণ বাজার। সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি হচ্ছে এখানে। কাছে গেলেও তাৎক্ষণিক বোঝার উপায় নেই, আসলে এতে কী আছে। কেবলমাত্র সেবনকারীরাই বলতে পারবেন, এখানে কে ক্রেতা আর কে বিক্রেতা।

দেখা যায়, একটি ঘরের সামনে বসে গাঁজা নিয়ে লোকজনকে ডাকছিলেন দুই থেকে তিনজন নারী। ওই নারীদের একজনের সঙ্গে কথা হলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, মামা, আগে গার্মেন্টসে চাকরি করতাম। যা পাইতাম, তা দিয়া পোষায় না। এজন্য এই কাজ করি। আমাগো কোনো সমস্যা নাই।পুলিশে যদি ধরে আমাগো ধরে, তাইলে মহাজনেরা ছাড়াইয়া আনে। হের লাইগা বিক্রি করতে পারি।

ছবি তুলতে গেলে তিনি নিষেধ করে বলেন, মামা, ছবি তুইলেন না। এসময় তার ছবি তুলতে গেলে তিনি গাঁজার পুরিয়া নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে যান।

এরপর তিনি বলেন, এমনি দেখেন। তয় ছবি তুইলেন না। আর আপনার কত লাগবে, হেইডা কন। ৫০ টাকার নাকি ১০০ টাকার লাগবে, হেইডা কন।

পাশের বস্তির ঘরের সামনে তিন থেকে চারজন নারী গাঁজা বিক্রি করছিলেন।ছবি তোলার ভঙ্গি দেখে তারা তেড়ে এলেন। রেগে গিয়ে বলেন, ‘খবরদার, ছবি তুলবেন না। এখান থেকে চলে যান। সবাই মিলে ধরলে কিন্তু বাঁচতে পারবেন না।’

এ সময় তাদের নাম জিজ্ঞাসা করলে একজন নারী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,তাড়াতাড়ি ভাগেন এইখান থেইকা। নইলে কপাল খারাপ আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, অনেকদিন ধরেই এ এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছে। তবে কিছুদিন থেকে এখানে প্রকাশ্যে গাঁজা বিক্রি শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কী বলেন! এভাবে মাদক বিক্রি হচ্ছে।

ওসি বলেন, এ মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। গত এক মাসে মাদক বিক্রির দায়ে ১৯৫ জনের সাজা হয়েছে। অর্ধ শতাধিক মামলাও হয়েছে।

এরপর তিনি বলেন, তবে এ ব্যাপারটা আমরা দেখছি। সূত্রঃ নতুনসময়

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী