সময় বিকাল ৩:০৮, বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বালিয়াকান্দিতে দুই শিক্ষকের পিটুনীতে হাসপাতালে ভর্তি স্কুল ছাত্র


বালিয়াকান্দি ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র সোহানকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে দুই শিক্ষক। সোমবার উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মোঃ আক্কাস আলীর ছেলে মোঃ সোহানকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিরাজুর রহমান ও সহকারি শিক্ষক সোহল রানা পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সার্জিকেল ওয়র্ডের ৬ নং বেডে চিকিৎসারত থাকা আহত স্কুল ছাত্র সোহান জানায়, গত রবিবার আমার সহপাঠি আশিকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মিমাংসা করে দিলে আমি বাড়ী চলে যাই। সোমবার বিদ্যালয়ে আসলে বিদ্যালয়ের পিয়ন জয়নালকে দিয়ে আমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। আমি প্রধান শিক্ষকের রুমে প্রবেশের সাথে সাথেই সহকারি শিক্ষক মিরাজুর রহমান ও সহকারি শিক্ষক সোহল রানা আমাকে বেধরক কিল,ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বারবার নিষেধ করলেও তারা তা কর্ণপাত করেননি । পরে বিদ্যালয়ের অন্য তিন শিক্ষক ফারুখ স্যার, গোবিন্দ স্যার ও লিমা স্যার আমাকে উদ্ধার করে রুমের বাইরে নিয়ে আসে। মারপিটের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে রাজবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করে।
বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজুর রহমান ও সোহেল রানা জানান, ঘটনার আগের দিন সোহান ও আশিকের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়। আমরা স্থানীয় শিক্ষক হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভালমন্দ দেখভাল করি। বিধায় ওদের ডেকে মিমাংসা করে দেই। কিšু‘ সোহান এ মীমাংসা না মেনে তার চাচাত ভাই সাকিলকে নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে আশিকের উপর চড়াও হয় এবং পথে দাড়িয়ে মারপিট করার চেষ্টা করে। এ ঘটনার কারনে পরের দিন প্রধান শিক্ষকের রুমে ডেকে আনলে সোহান সব অস্বীকার করায় রেগে দুটি থাপ্পর মারি অভিভাবক হিসেবে।
বিদ্যালয়ের অপর তিন শিক্ষক ফারুখ হোসেন, গোবিন্দ ও লিমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, আমি নিষেধ করা সত্বেও ওই দুই শিক্ষক সোহানকে চড় থাপ্পর মেরেছেন। এ ব্যাপারে আমি আগামি ২০ তারিখে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকেছি সে সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার জানান, আমি বিষয়টি শুনেছি । আমি খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা জানান, কেউ আমাকে বিষয়টি অবগত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী