রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : ঘুরে দাড়িয়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ডিভিশন। বিশেষ করে মানুষের মৃত্যু ফাদ ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা ব্রীজের উচ্চতা বৃদ্ধি করায় গত দু‘বছরে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া ইঞ্জিন ও সবুজ বাংলা কোচ আমদানী, বন্ধ থাকা ৫৪ স্টেশন আংশিক চালু করা, ট্র্যাকের কাজ করা, লোক নিয়োগ, স্টেশন রি-মডেলিং কাজ করা,ইয়ার্ড আধুনিকায়ন কাজ করায় মানুষ রেল ভ্রমণে ঝুকছে। এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করায় শত শত মানুষের প্রাণ হানি ও হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তার সাথে দেশবিদেশে সহজেই ভ্রমন ও মালামাল পরিবহণ করতে পারছেন। একই সাথে রেল কর্তৃপক্ষও অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করে জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারছেন।
রেলওয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের আন্দোলন, হরতাল,আবরোধের মুখে পড়ে। বিশেষ করে ৯৬ দিনের আন্দোলন অবরোধের মধ্যেও রেল কর্মকতা-কর্মচারিরা সাহসের সাথে ট্রেন চলাচল সচল রাখতে সক্ষম হয়। বৃহত্তর আন্দোলনের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সৃষ্ট উপলব্ধি থেকে রেলওয়ের উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের পরই রেল মন্ত্রী মুজিবুল হক, ডিজি আমজাদ হোসেন,এডিজি কাজী রফিকুল ইসলাম ও জিএম খায়রুল আলম ও জিএম আব্দুল হাইয়ের মত উন্নয়নকামী কর্মকর্তারা শক্তভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তারা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনের বিভিন্ন বিভাগে সময় উপযোগী কিছু ঘুরুত্ব পূর্ণ উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রচেষ্ঠা শুরু করেন। বিশেষ করে জিএম খায়রুল আলমের শক্ত পদক্ষেপে টিকিট চেকিং, ভ্রাম্যমান আদালত চালু ও যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যাত্রীরা ক্রমান্বয়ে ট্রেন মুখি হয়ে পড়ে। এতে রেলের রাজস্বও বৃদ্ধি পেয়েছে আগের যে কোন সময়ের অনেকগুণ বেশী। ঈশ্বরদী ঢাকা রুটের ভাঙ্গুড়া কৈডাঙ্গা ব্রীজের উন্নয়ন করা হয় গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। ট্রেন লেভেল থেকে ব্রীজটির উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয় সাত ফুট। এতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে কোন যাত্রী দাড়িয়ে থাকলেও দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকেনা। ব্রীজটির উন্নয়নের পর থেকে অদ্যবধি কোন প্রকার দূর্ঘটনা ঘটেনি। এমনকি কোন হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। অথচ মানুষের মৃত্যু ফাদ বলে পরিচিত এ ব্রীজে ব্রিটিশ আমল থেকে প্রায় ১০৭ বছরে অসংখ্য দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ মারা গেছে। বিশেষ করে প্রতি বছরের দু’ঈদের আগে পরে ট্রেনের ছাদে ভ্রমনকারী যাত্রীরা এসব দূর্ঘটনার শিকার হন। এসব ধূর্ঘটনায় অন্ততঃ ৫’শ জনের প্রাণ হানি ও দু’শতাধিক ব্যক্তিকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। ট্রেনের ছ^াঁদ থেকে ব্রীজের খাচায় বেধে নীচে পড়ে নদীতে ভেসে যাওয়ায় হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যাণও রেল কর্তৃপক্ষের সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঈদের ৪ দিন আগেএ ব্রীজে এক ভয়াবহ দূর্ঘটনায় ৫ যাত্রী নিহত ও আহত হয় ১২ জন।
সময়ের পরিবর্তণ এবং চাহিদার কারণে আমদানী করা হয়েছে ইঞ্জিন ও সবুজ বাংলা কোচ। বাড়ানো হয়েছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা । পাকশী ডিভিশনে আগে যেখানে ব্রডগেজ লাইনে আন্তঃনগর ট্রেন ১৭/১৮ টি,এক্সপ্রেস মেইল ১৪ টি,লোকাল ১০ টি,মিক্স ট্রেইন ৪টি,মালবাহী ট্রেন গড়ে ৮/৯টি চালানো হতো। এখন সেখানে ব্রডগেজ লাইনে আন্তঃনগর ট্রেন ৩২ টি,এক্সপ্রেস মেইল ২০ টি,লোকাল ১৭ টি,মিক্স ট্রেইন ৬টি,মালবাহী ট্রেন গড়ে ১৮ টি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়াও ২ টি মৈত্রী এবং মিটার গেজ লাইনে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো হচ্ছে। বন্ধ থাকা ৫৪ টি স্টেশন আংশিক চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ট্্র্যাকের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে,বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৫ হাজার লোক নিয়োগ করা হয়েছে,কয়েকটি স্টেশন রি-মডেলিং ও স্টেশন ইয়ার্ডের ট্র্যাক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। রাজবাড়ি-ফরিদপুর,ঈশ্বরদী,নগরবাড়ি ঢালার চরসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন রেলপথ নির্মাণ ও নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। এ সব কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তার সাথে দেশ-বিদেশে সহজেই ভ্রমন ও মালামাল পরিবহণ করতে পারছেন। সড়ক পথের যানজটের বিড়ম্বনা এবং দূর্ঘটনায় প্রাণ হানি ও পঙ্গুত্বের হাত থেকেও রক্ষা পাচ্ছেন যাত্রীরা। খুব সহজেই তারা গন্তব্যে মালামাল পরিবহণের সুযোগও কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। রেল কর্তৃপক্ষও অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করে জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে বিশেষ ভুমিকা রাখতে পারছেন।
পশ্চিম রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিআরএম) অসীম কুমার তালুকদার এ সব উন্নয়নের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আরমাদায়ক ও যানজট মুক্ত হওয়ায় মানুষ দিন দিন রেল ভ্রমনের দিকে ঝুঁকছে। এতে মানুষ কম সময়ে এবং সাশ্রয়ে স্বচ্ছান্দে ভ্রমণ করতে পারছে। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ব্যাপক রেড়েছে।
ভাঙ্গুড়া কৈডাঙ্গা ব্রীজ দু’বছরে কোন হতাহত হয়নি : ঘুরে দাড়িয়েছে রেলের পাকশী ডিভিশন
নিউজ আপডেট টাইম : জুলাই, ২৩, ২০১৭, ২:০৪ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
325 বার
