রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ানের সুচরণ এলাকায় ৬ দিন ধরে এক ঘরে হয়ে রয়েছে একটি পরিবার। একটি প্রভাবশালী মহল ওই পরিবারের সঙ্গে সবধরনের সামাজিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে। পরিবারে এক অসুস্থ্য শিশু সুমাইয়ার ভরণ পোষনকে কেন্দ্র করে এই অবস্থা বিরাজ করছে। পরিবারের অসুস্থ্য শিশুটির ওষুধ ওই গ্রামে কেনা যাচ্ছেনা। পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের জন্য ভ্যানে নেয়া হচ্ছে না। স্কুলে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। প্রাইভেট পড়তে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে তিনি শুধু জানিয়েছেন তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গ্রামের মাতব্বরেরা জানিয়েছেন তাদের অমান্য করায় ওই পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে। একঘরে পরিবারের বেবি বেগম জানান, তার মেয়ে আয়েশা আখতারের সঙ্গে ২০১৪ সালের ২৮ মার্চ একই গ্রামের তরিকুল ইসলাম সাজুর বিয়ে হয়। সাজু স্বর্নকারের কাজ করে। বিয়ের সময় কোনো যৌতুক চাওয়া হয়নি। বিয়ের তিন মাস পরে থেকে চার লাখ টাকা যৌতুক চাওয়া হয়। এর জন্য চরম অত্যাচার করা হয়। বিয়ের এক বছর পরে তার মেরয়ে পেটে সুমাইয়া জন্মায় আল্ট্রাসেনোগ্রামে পেটে মেয়ে রয়েছে দেখে আয়েশার ওপর অত্যাচার বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে মেয়ের বয়স যখন এক বছর তখন আয়েশাকে তালাক দেয়া হয়। দেন মোহরের এক লাখ টাকা পরিষোধ করা হয়। মেয়ের জন্য প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই টাকা ঠিক মতো দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু ওই টাকায় বাচ্চার চিকিৎসা খরচ চালাতে না পারায় তারা খোরপোশের টাকা বৃদ্ধির কথা বলেন। এ বিষয়ে সমাজে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। এ সময় আয়েশার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। গ্রামের সমাজ প্রধানেরা সাজুর পক্ষে অবস্থান নেয়। পরবর্তিতে আয়েশার পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেয়া হয়নি। এ কারনে সমাজপতিরা পরিবারটিকে এক ঘরে করে দেয়। এ বিষয়ে আয়েশা আখতার বলেন, তার বিয়ের পর থেকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালায়। যে বৈঠকে তাদের একঘরে করা হয় সেখানে সমাজপতিদের মধ্যে ছিলেন আজিজুল, কামাল, আয়নাল শেহের, শুকচান এবং নুরেশ। এর পর থেকে তিনি তার মেয়ের ওষুধ এলাকায় কিনতে পারছেন না। এ সময় একদিন মেয়ের জন্য স্যালইন কিনতে গেলে দেয়া হয়নি। পরে কাটাখালি বাজার থেকে ওষুধ কেনা হয়। তার বোন শাহানাজকে প্রাইভেট পড়তে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। মসজিদ মাদ্রাসায় যেতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ মারা গেলে গ্রামে কবর দিতে দেয়া হবে। তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। তার বাবা শহিদুল ইসলাম রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একজন মাস্টার রোল কর্মচারি। তারা চার বোন সবাই লেখাপড়া করেন। তাদের সবাইকে স্কুল কলেজে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। সুচরন গ্রামের মাতব্বর আজিজুল জানান, পরিবারটি সমাজের কথা না শোনায় তাদের বিরুদ্ধে এক ঘরে করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রামের সবাই মিলে নেয়া হয়েছে। পরিবারটি যদি তাদের কাছে এসে ক্ষমা চায় তবে তাদের বিরুদ্ধে এক ঘরে রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। হরিয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন তিনি বিষয়টি জেনেছেন। এটা ওই গ্রামের সমাজপতিরা চরম অন্যায় করেছে। এটা সরাসরি রাষ্ট্রের আইনের বিরোধিতা। তারা পরিবারটিকে রাস্তায় চলতে দিচ্ছে না। পুকুরে গোসল করতে দিচ্ছেনা। পরিবারটির ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।পরিবারটিরপক্ষ থেকে আইন ও সালিস কেন্দ্র বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা যৌথ আইন সহায়তা কেন্দ্রে একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
আবার শুরু হয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতা রাজশাহীতে ৬ দিন ধরে একঘরে এক পরিবার
নিউজ আপডেট টাইম : জুলাই, ২৫, ২০১৭, ৬:৫২ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
157 বার
