সময় রাত ১১:৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গরম পানি ছুড়ে ঝলসে দিল চা বিক্রেতার

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : নির্দেশমতো চা সরবরাহ না করায় নাটোর এনএস সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা গরম পানি ছুড়ে ঝলসে দিয়েছে চা বিক্রেতা দুই ভাই মোস্তফা ও রুস্তমের শরীর। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। আরেক ভাই ডলারকে বেধড়ক পিটিয়ে দোকানের মাল ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রিয়নের নেতৃত্বে কলেজ গেট সংলগ্ন হাফিজ টি স্টলে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে শাহরিয়ার রিয়ন দাবি করেন, চা দিতে বলে তিনি নিজেই উল্টো দোকানিদের হামলার শিকার হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ।
সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রিয়নসহ নেতা-কর্মীরা চা পানের জন্য কলেজ গেট সংলগ্ন আমিরের চায়ের দোকানে বসেন। সেখানে চা না পেয়ে তারা ওই দোকানে বসে পাশের হাফিজ টি স্টলের মালিক মোস্তফাকে ২০ কাপ চা দিতে বলেন।
কিন্তু মোস্তফা পাশের দোকানে চা দিতে অপারগতা জানালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শাহরিয়ার রিয়নের নেতৃত্বে মোস্তফার চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে।
এতে বাধা দিলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মোস্তফা ও তার দুই ভাই রুস্তম ও ডলারকে বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা কেটলিতে থাকা গরম পানি মোস্তফা ও রুস্তমের দিকে ছুড়ে মারলে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
মোস্তফার ভাই ডলার জানান, চা না দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা রিয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে ঢুকে কাপ ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। এক পর্যায়ে তিনি গরম পানিভর্তি কেটলি ছুড়ে মারেন। এতে মোস্তফা ও রুস্তমের শরীর ঝলসে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সটকে পড়ে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহরিয়ার রিয়ন জানান, ‘কেন চা দেবে না- জানতে চাইলে দোকানি মোস্তফা অশালীন ভাষায় আমাদের গালাগালি করেন। এক পর্যায়ে রাগ করে আমি একটা চায়ের কাপ ভেঙে ফেলি।
এতে চা দোকানি ডলার ক্ষিপ্ত হয়ে রড দিয়ে আমাকে আঘাত করেন। এ সময় অন্য কর্মীরা এগিয়ে এলে ডলার তার ভাইদের নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। আমরা প্রতিরোধ করলে গরম পানিভর্তি কেটলি আমাদের দিকে ছুড়ে মারতে গিয়ে তাদের গায়ে পড়ে। ছাত্রলীগের কেউ তাদের গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারেনি।’
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিকদার মশিউর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোস্তফা ও রুস্তম বর্তমানে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী