সময় রাত ১০:০১, বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রানীনগরে সড়ক ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : নওগাঁর রাণীনগরে বন্যা পরিস্থীতির চরম অবনতি হয়েছে । গত দু’দিনে বাঁধ ও পাকা সড়ক ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে । উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৩২ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে । পানিতে তলে গেছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল । পাকা সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলা শহরের সাথে আত্রাই উপজেলার সম্পন্ন ও রাণীনগর উপজেলার আংশিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে । তবে এখনো এলাকায় পৌছেনি বন্যার্তদের ত্রান সামগ্রি ।
জানা গেছে,গত ক’দিনের একটানা ভারী বর্ষন ও উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে উপজেলার মিরাট ইউপি’র ঘোষগ্রাম ঠাকুরপাড়া, কৃষ্ণপুর সরদারপাড়া, মেরিয়া ও আলাউদ্দিনের ইটভাটা নামক স্থানে রবিবার রাতে পর্যায়ক্রমে পানি রক্ষা বেড়িবাঁধ পানির চাপে ভেঙ্গে যায় এবং সোমবার বিকেলে ও রাতে নওগাঁ জেলা শহরের সাথে আত্রাই উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়কের ঘোষগ্রাম নামক তিনটি স্থানে ভাঙ্গনের ফলে জেলা শহরের সাথে আত্রাই উপজেলার সম্পন্ন এবং রাণীনগর উপজেলার আংশিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে । পাকা সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করায় উপজেলার মিরাট, গোনা ও কাশিমপুর ইউপি’র কৃষ্ণপুর, ঘোষগ্রাম, নান্দাইবাড়ী, মালঞ্চি, আতাইকুলা, হরিশপুর, কুজাইল, কৌনুজ, কাশিমপুর, মেরিয়া গ্রাম সহ নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ প্রায় ৩২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।এতে ৩২ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এছাড়া পারইল, রাণীনগর খট্রেশ্বর ও বড়গাছা ইউনিয়নের বেশ কিছু আবাদি জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে । বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি, এলাকার রাস্তা-ঘাট ও বেশ কয়েকটি প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা কবলিত মানুষ আতœীয়-স্বজনের বাড়ি ও এলাকার বিভিন্ন উঁচু জায়গায় পরিবার পরিজন ও গরু/ছাগল,হাঁস-মুরগী নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এলাকার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমির সদ্য রোপণকৃত রোপা-আমন ধান বন্যার পানিতে তলে গেছে। পাশা-পাশি ওই এলাকার চাষকৃত অনেক পুকুর ডুবে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও নওগাঁ-আত্রাই পাকা সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে গত দু’দিন ধরে বন্যা দূর্গত মানুষের কাছে এখনো কোন ত্রান সহায়তা পৌছাইনি বলে জানিয়েছেন বন্যাদূর্গতরা।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহে কাজ চলছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে যে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে তা দূর্ত বিতরণ করা হবে।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী