রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : পাবনার বেড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের অব্যাহত পানি বাড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরো পানি বাড়ার আশঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন অনেকেই।
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নগড়বাড়ির মথুরা পয়েন্টে গত সোমবার যমুনার পানি বিপদসীমার ১০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরের ২৪ ঘণ্টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ সেমি। এছাড়া বাঘাবাড়ি পয়েন্টে হুরাসাগর নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নগড়বাড়ি থেকে বাধেরহাট পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে।
বেড়া উপজেলার নিন্মাঞ্চলসহ হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার পরিবার, নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার, কৈটলা ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবার ও ঢালারচর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী জীবনযাপন করছে।
ঢালারচর ইউনিয়নের কোরবান আলী জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আজ রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি মারাত্বক আকার ধারণ করতে পারে। নতুন করে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। প্রতিটি ইউনিয়নের অবস্থা একই রকম। বন্যার পানি বৃদ্ধিতে মারাত্বক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এলাকার তাঁত শিল্প। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ অঞ্চলের প্রধান লুঙ্গি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লুঙ্গি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা শুকানোর জায়গা না থাকায় এ শিল্পে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
হাটুরিয়া নাকালিয়া তাঁত শিল্প ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী সরকার জানান, মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এসব তাঁত শিল্প পরিচালিত হয়। ঈদে লোকসান হলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে না।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শামীম এহসান জানান, বন্যা দুর্গত এলাকার চেয়ারম্যানরা এখন পর্যন্ত তাদের এলাকার সাহায্যেও জন্য কোনো তথ্য জানাননি। আজ বুধবার সবাইকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। যার যার এলাকার তথ্য সেখানে উপস্থাপন করবেন।
বেড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আরো অবনতির আশঙ্কা
নিউজ আপডেট টাইম : আগস্ট, ১৬, ২০১৭, ১২:০৮ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
142 বার
