রাজশাহী বিভাগীয় চীফ : প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প পাবনার পাকশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে।
দুই পর্বে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটির কাজ ২০১৩ সালে শুরু হয়েছে, প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সাল।
সুসংবাদ হল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে ৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ।
শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ের মহাযজ্ঞ। অক্টোবরে উদ্বোধন হতে পারে প্রকল্পের মূল স্থাপনার রিঅ্যাক্টিভ বিল্ডিং নির্মাণের কাজ।
এ অঞ্চলে সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এরপর কারিগরি ও অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।
কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করা যায়নি এতকাল। বর্তমান সময়ে পাকশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের দেখভাল করছেন।
প্রকল্পটি শেষ হলে দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা এ দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার এক বিরাট অংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে।
এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। সেসব বিতর্ক ছিল নিতান্তই বালকোচিত। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় এবং রাশিয়ার বিশেষ ধরনের প্রযুক্তির অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকবে না বললেই চলে।
উপরন্তু দৈবক্রমে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা যদি ঘটেও যায়, তাহলেও প্রকল্পটির তেজস্ক্রিয় পদার্থ লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
কার্বনমুক্ত ও বেইসলোড বিদ্যুতের জন্য এ ধরনের একটি বৃহৎ প্রকল্প আমাদের বিশেষ প্রয়োজন ছিল বৈকি।
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সরকারের একটি মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে, এই প্ল্যানের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্তত ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আলোচ্য প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে সেই লক্ষ্য অর্জনের অনেকটাই সম্পন্ন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং তাদেরই পরামর্শ অনুযায়ী চলছে কাজ।
যে কোনো দেশের জন্যই বিদ্যুৎ এক বড় প্রয়োজন। বস্তুত বিদ্যুৎ ছাড়া শিল্পের বিকাশ দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও অসম্ভব। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ আরও বেশি প্রয়োজন।
নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির পরিচালক, প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মকর্তা, সর্বোপরি সরকারও কাজের গতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
পাকশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক
নিউজ আপডেট টাইম : আগস্ট, ১৯, ২০১৭, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
571 বার
